সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রিজিকের স্তর সমূহঃ

 রিজিকের সর্বনিম্ন স্তরঃ টাকা, পয়সা, অর্থ,  সম্পদ।

সর্বোচ্চ স্তরঃ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা।

সর্বোত্তম স্তরঃ পুণ্যবান স্ত্রী ও পরিশুদ্ধ নেক সন্তান

পরিপূর্ণ স্তরঃ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি।  রিজিক খুব গভীর একটি বিষয় যদি আমরা বুঝতে পারি।  আমি পুরো জীবনে কত টাকা আয় করবো সেটা লিখিত, কে আমার জীবনসঙ্গী হবে সেটা লিখিত, কবে কোথায় মারা যাবো সেটা লিখিত।  আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, আমি কতগুলো দানা ভাত দুনিয়াতে খেয়ে তারপর মারা যাবো সেটা লিখিত। একটি দানাও কম না, একটিও বেশি না।

ধরেন এটা লিখিত যে আমি সারাজীবনে ১ কোটি টাকা আয় করবো, এই সিদ্ধান্ত আল্লাহ্‌ তায়ালা নিয়েছেন।  আমি হালাল উপায়ে আয় করবো না হারাম উপায়ে আয় করবো সেই সিদ্ধান্ত আমার। যদি ধৈর্য ধারণ করি, আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে চাই, তাহলে হালাল উপায়ে ওই ১ কোটি আয় করেই আমি মারা যাবো, হারাম উপায়ে হলেও ওই ১ কোটিই নাথিং মোর, নাথিং লেস!

আমি যেই ফলটি আজকে ঢাকা বসে খাচ্ছি, সেটা হয়ত ইতালি কিংবা থাইল্যান্ড থেকে ইমপোর্ট করা। ওই গাছে যখন মুকুল হয়েছে তখনই এটা নির্ধারিত যে সেটি আমার কাছে পৌঁছাবে। এর মধ্যে কত পাখি ওই ফলের উপর বসেছে, কত মানুষ এই ফলটি পাড়তে গেছে, দোকানে অনেকে এই ফলটি নেড়েচেড়ে রেখে গেছে, পছন্দ হয় নি, কিনে নি। এই সব ঘটনার কারণ একটাই, ফলটি আমার রিজিকে লিখিত। যতক্ষণ না আমি কিনতে যাচ্ছি, ততক্ষণ সেটা ওখানেই থাকবে।

 এর মধ্যে আমি মারা যেতে পারতাম, অন্য কোথাও চলে যেতে পারতাম, কিন্তু না। রিজিকে যেহেতু লিখিত আমি এই ফলটি না খেয়ে মারা যাবো না। রিজিক জিনিসটা এতোটাই শক্তিশালী!কিংবা যেই আত্মীয় কিংবা বন্ধু-বান্ধব আমার বাসায় আসছে, সে আসলে আমার খাবার খাচ্ছে না। এটা তারই রিজিক, শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ তায়ালা আমার মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। হতে পারে এর মধ্যে আমাদের জন্য মঙ্গল রয়েছে। আমরা হালাল না হারাম উপায়ে খাচ্ছি সেটা নির্ভর করছে আমি আল্লাহ্‌ তায়ালার উপর কতটুকু তাওয়াক্কাল আছি, কতটুকু ভরসা করে আছি। আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের সঠিক পথ ও রিজিক  এর তৌফিক দান করুন, আমিন

️লেখা: উস্তায শাহদাত ফয়সাল (রহ.)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠের ফজিলত

১৭ শ্রেণীর মানুষ মুসলিম হয়েও জান্নাতে যাবে না

  ১৭ শ্রেণীর মানুষ মুসলিম হয়েও জান্নাতে যাবে না =========================== ওই ধরনের কিছু গুনাহ নিম্নরূপ— (কিন্তু আপনি যদি মনে প্রাণে তাওবা করেন, এবং নিজের ভুল সংশোধন করেন, আল্লাহ্‌ তো রাহমানুর রাহিম, উনি কি না করতে পারে। সাবধানতা অবলম্বন করুন।) (১) হারাম খাদ্য ভক্ষণকারী জান্নাতে যাবে না : হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা লালিত-পালিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ’ (সুনানে বায়হাকি : ৫৫২০) . (২) আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না : হজরত জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ’ (সহিহ বুখারি : ৫৫২৫) . (৩) প্রতিবেশীকে কষ্ট দানকারী জান্নাতে যাবে না : হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার অত্যাচার থেকে প্রতিবেশীরা নিরাপদ নয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ’ (সহিহ মুসলিম : ৬৬) . (৪) মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান ও দাইয়ুস জান্নাতে যাবে না : রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তিন শ্রেনির লোক জান্...

রমজানে ঋতুস্রাব/মাসিক/পিরিয়ড অবস্থায় করণীয়ঃ

  আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি, ওয়া বার-কাতু্হ্.! _ রমজানে ঋতুস্রাব/মাসিক/পিরিয়ড অবস্থায় করণীয়ঃ ১. প্রথমতঃ বলুন আলহামদুলিল্লাহ। কারণ পিরিয়ড অবস্থায় রোজা না রেখে আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য আপনি প্রতি মুহূর্তে সওয়াব/নেকি পাচ্ছেন। ২. 'বিসমিল্লাহ' দিয়ে সবকিছু শুরু করুন। ৩. আল্লাহর ৯৯টি নাম মুখস্থ করুন। ৪.পবিত্র কোরআন পড়তে না পারার জন্য মন খারাপ করার কোন কারণ নাই। আপনি সূরা ইখলাস পড়তে পারেন। এটি সম্পূর্ণ কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ। তাই পরপর ৩ বার পাঠ করুন। এভাবে ২১বার পর্যন্ত অথবা তারও বেশি বার পাঠ করতে পারলে মাশাল্লাহ। ৫. প্রচুর যিকির করুন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) - এর উপর প্রচুর দুরূদ প্রেরণ করুন। ৬. বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন (আস্তাগফিরুল্লাহ!) ৭.ছোট ছোট দোয়া ও অধিক তাৎপর্যপূর্ণ আয়াত সমূহ অর্থসহ মুখস্থ করুন। ৮. সহীহ হাদিস পড়ুন। ৯. কুরআনের তাফসীর বা ওয়াজ শুনুন। ১০. মাতৃভাষায় কুরআনের অনুবাদ পড়ুন। ১১. হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) এর জীবনী পড়ুন। ১২. উম্মুল মু'মীনিন ও মহিলা সাহাবিয়াদের গল্প বা সাহাবা ই কিরামের গল্প/শিক্ষনীয় কাহিনী পড়ুন। ১৩. স্কুল-কলেজের, চেনা-জানা অথবা ঘরে বা বাইরের...